ডাক ও খনার বচন প্রাচীন যুগের সৃষ্টি হলেও মধ্যযুগের শুরুতে এগুলো সমৃদ্ধি লাভ করে। একসময়ে বাংলাদেশে ডাক ও খনার বচন ব্যাপক প্রচলিত ছিল।
ক) ডাকের বচন: বৌদ্ধদের জ্ঞানপুরুষ ডাক। এ বৌদ্ধ সমাজেই ডাকের বচনের উৎপত্তি হয়েছিল। কৃষক ও কৃষাণীরা এগুলো মুখস্থ রাখতেন। ডাক কোন একক ব্যক্তি বিশেষের নাম নাও হতে পারে। হয়ত একাধিক ব্যক্তি কালক্রমে বিশেষ জ্ঞানের যে পদগুলো রচনা করেছেন তাকেই ডাকের বচন বলা হয়। ডাকের বচন 'ডাকের কথা' বা 'ডাক পুরুষের কথা' নামেও পরিচিত। এতে জ্যোতিষ, ক্ষেত্রতত্ত্ব ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। যেমন:
- ঘরে আখা বাইরে রাঁধে, অল্প কেশ ফুলাইয়া বাঁধে।
খ) খনার বচন: কৃষি ও আবহাওয়ার কথা প্রাধান্য পেয়েছে।
খনা: খনার বচন প্রধানত কৃষিভিত্তিক। খনার বচন ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। বৌদ্ধ সমাজে যেমন ডাকের বচনের উৎপত্তি হয়েছিল, তেমনি হিন্দু সমাজে খনার বচনের সৃষ্টি হয়েছিল। এ বচনগুলি জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী এক বিদুষী বাঙালি নারীর রচিত বলে ধরে নেয়া হয়। খনার বচনগুলির মাধ্যমে প্রধানত কৃষি, আবহাওয়া, সমাজের পরিচয় সম্পর্কে বহুবিধ ধারণা পাওয়া যায়। যেমন:
- কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ, পাকলে করে ঠাস ঠাস।
- একে তো নাচুনি বুড়ি, তার উপর ঢোলের বাড়ি।
- কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত।
- আলো হাওয়া বেধ না, রোগ ভোগে মরো না।
- উনা ভাতে দুনা বল, অতি ভাতে রসাতল।
- আউশ ধানে চাষ লাগে তিন মাস।
- আগে খাবে মায়ে, তবে পাবে পোয়ে।
- গাছে গাছে আগুন জ্বলে, বৃষ্টি হবে খনায় বলে।
- তেলা মাথায় ঢালো তেল, শুকনো মাথায় ভাঙ্গ বেল।
- দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ।
- ভাত দেবার মুরোদ নাই, কিল দেবার গোসাঁই।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
শিল্প
কৃষি
সাহিত্য
বিজ্ঞান
Read more